যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট দেশটির এক প্রজন্মের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেবি বুমার বা বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে এক বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। ইউটিউব চ্যানেল জুবিলির ‘সাউন্ডেড’ অনুষ্ঠানে ২৯ বছর বয়সী ফ্রস্ট দাবি করেন, বর্তমান জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম যেসব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আগের প্রজন্মের জন্য ছিল না। এই বিতর্কটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কে ফ্রস্ট বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও এখনকার তরুণদের জন্য ভালো চাকরি পাওয়া এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, প্রথাগত আমেরিকান ড্রিম এখন অনেক তরুণ প্রজন্মের জন্যই অধরা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ফ্রস্ট জানান, কংগ্রেসে নির্বাচনের সময় টিকে থাকার জন্য তাকে উবার চালক হিসেবেও কাজ করতে হয়েছে।
এর জবাবে তার প্রতিপক্ষ কমেডিয়ান জিন বিস্কন্টে যুক্তি দেখান যে, ফ্রস্ট যেহেতু উবার চালিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে এসেছেন, তাই আমেরিকান ড্রিম এখনো কার্যকর। জবাবে ফ্রস্ট পাল্টা বলেন, টিকে থাকার সংগ্রামই আমেরিকান ড্রিম নয়, বরং উন্নতি করাই এর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমার প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষই কেবল বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে, যা আগের প্রজন্মের জীবনযাত্রার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিতর্কের এক পর্যায়ে উইলিয়াম নামের আরেক অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে আবাসন ও খাদ্যের দাম বাড়ছে। তবে ফ্রস্ট এই মতের বিরোধিতা করে জানান, অভিবাসীরা অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত আবাসন খাতের সীমাবদ্ধতা ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় দায়ী।
ম্যানহাটান ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক জাজ গ্লক বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, আবাসন সংকট এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। তবে তিনি ফ্রস্টের অভিযোগের বিপরীতে জানান, কম বাড়ি নির্মাণ এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি বিধিনিষেধই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া উচ্চশিক্ষার ঋণের বোঝা বর্তমান প্রজন্মের আর্থিক সক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।
সাবেক রিপাবলিকান মুখপাত্র এলিজাবেথ পিপকো জানান, বর্তমান প্রজন্ম অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও অতীতের সাথে তুলনাটি পুরোপুরি ন্যায়সংগত নয়। তার মতে, আজকের আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা এবং জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত। এই বিতর্কে অংশ নেওয়া অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা ট্রেড বা কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে তরুণরা নতুন অর্থনীতির বাজারে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।