যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত থমাস জেফারসন ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটির গবেষকরা একটি বিশেষ উপপারমাণবিক কণা অনুসন্ধানের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে দুটি ভিন্ন কাঠামোর অস্তিত্ব পেয়েছেন। পদার্থবিদদের মতে, এই নতুন কাঠামো দুটি এক্সওয়াইজেড (XYZ) নামক অদ্ভুত কণার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই ফলাফল কোয়ার্ক ও গ্লুয়ন কীভাবে একত্রিত হয়ে পদার্থ তৈরি করে, তা বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে।
গবেষণা দলের সদস্য মাল্টে আলব্রেখট জানান, তারা একটি নির্দিষ্ট এক্সওয়াইজেড কণা খুঁজছিলেন কিন্তু তার পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন দুটি কাঠামোর সংকেত পেয়েছেন। এটি বিজ্ঞানের জন্য একটি নতুন তথ্য। জেফারসন ল্যাবের গ্লুওনিক এক্সাইটেশনস (GlueX) কোলাবরেশন এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে এবং তা ফিজিক্যাল রিভিউ লেটারস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
সাধারণত হ্যাড্রন কণাগুলো কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত, যা সবল পারমাণবিক বলের মাধ্যমে আটকে থাকে। তবে এক্সওয়াইজেড স্টেটগুলো প্রচলিত কোয়ার্ক মডেলের সঙ্গে সহজে খাপ খায় না। জেফারসন ল্যাবে উচ্চ-শক্তির ফোটন বিম প্রোটন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পর গবেষকরা এই নতুন সংকেতগুলো শনাক্ত করেন।
গবেষণায় Y(2175) নামক একটি পরিচিত কণা খোঁজা হয়েছিল, যা অতীতে ইলেকট্রন-পজিট্রন সংঘর্ষে দেখা গিয়েছিল। তবে জেফারসন ল্যাবের নতুন পরীক্ষায় সেটি পাওয়া যায়নি। এর পরিবর্তে গবেষকরা ২.২৪ গিগাইলেকট্রন ভোল্ট ভরের Y(2240) এবং ১.৮২ গিগাইলেকট্রন ভোল্ট ভরের X(1830) নামক দুটি নতুন কাঠামোর সংকেত পেয়েছেন।
গবেষক ফ্রাঙ্ক নার্লিং জানান, পরবর্তী ধাপ হলো প্রকৃতিতে এই এক্সোটিক কোয়ার্ক কনফিগারেশনগুলোর আসল রূপ কেমন, তা নির্ধারণ করা। এই আবিষ্কারটি এক্সোটিক হ্যাড্রন অনুসন্ধানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।