ভারতের দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘পদ্মাবত’ সিনেমার জওহর প্রথা নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ধর্ষণ ও নারীর সম্মানের সাথে এই ঐতিহাসিক প্রথার তুলনা করায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তার এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নারীর আত্মসম্মান, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির সংবেদনশীলতাকে উসকে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরা প্রশ্ন তোলেন, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর একজন নারীকে কি ‘পদ্মাবত’ সিনেমার মতো আত্মহননের পথ বেছে নিতে হবে? তিনি আরও বলেন, জওহর প্রথাকে মহিমান্বিত করা কি সমাজকে এমন বার্তা দিচ্ছে যে ধর্ষণের শিকার নারী বেঁচে থাকার যোগ্য নন? তার মতে, ধর্ষণ মানেই একজন নারীর জীবনের সমাপ্তি নয়।
উল্লেখ্য, জওহর প্রথা মধ্যযুগের রাজপুত সমাজে প্রচলিত একটি আত্মহনন প্রথা ছিল, যেখানে শত্রুর হাতে লাঞ্ছনা এড়াতে নারীরা স্বেচ্ছায় আগুনে ঝাঁপ দিয়ে জীবন দিতেন।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা
তীব্র সমালোচনার মুখে স্বরা ভাস্কর একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দাবি করেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি কেবল বোঝাতে চেয়েছেন যে ধর্ষণের পরেও একজন নারীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর জন্য সংবাদমাধ্যমকেও দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, কর্নি সেনার মহিলা শাখার প্রধান কীর্তি রাঠোর অভিনেত্রীর মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না বুঝে নারীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি নিয়ে এভাবে অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। স্বরাকে নিজের ভাষা সংযত করার পরামর্শও দেন তিনি। এর আগে একই সিনেমার জের ধরে দীপিকা পাড়ুকোনকেও এই সংগঠনের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল।