বাংলাদেশের বান্দরবানের লামা বন বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগদানের পর থেকে তিনি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যেখানে ইটভাটা, জোত পারমিট ও চেক স্টেশন থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই দুর্নীতির শিকড় চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক এম এ হাসান পর্যন্ত বিস্তৃত বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
লামা বন বিভাগের অধীনে ছয়টি রেঞ্জ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিটি রেঞ্জ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা তোলা হয়। লামা মুখ চেক স্টেশন থেকে প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা, ৪৯টি ইটভাটা থেকে মাসোহারা এবং প্রতিটি রেঞ্জ থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের নামে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর থেকে লামার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বন উজাড় হয়ে গেছে।
এই অনিয়ম পরিচালনায় ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান নিজের পছন্দের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। ফরেস্টার রনি পারভেজকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাকে ডিএফও-এর ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এছাড়া, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কাঠ পাচারের ক্ষেত্রেও একই সিন্ডিকেট জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক এম এ হাসান জানিয়েছেন, তদন্তে যা উঠে আসবে, তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বন অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক জানান, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।