যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গাণিতিকভাবে একটি নিখুঁত নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করা অসম্ভব। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের গবেষণায় তুলে ধরেছেন যে, কোনো নির্বাচনী পদ্ধতিই একই সাথে তিনটি শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে সক্ষম নয়: স্থানীয় বা আঞ্চলিক জয় নিশ্চিত করা, প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে জাতীয় পর্যায়ে আসন বণ্টন এবং সংসদের মোট আসনের সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখা। গবেষক ড. ফ্রেডেরিক রাভন ক্লাউসেন এবং সেবাস্টিয়ান টিম হোল্ডাম জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী ব্যবস্থায় এই তিনটি উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করা গাণিতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। জার্মানি, ডেনমার্ক এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর নির্বাচনী ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন, ডেনমার্কে ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট এবং আসনের হারের সামঞ্জস্য না থাকা বিষয়টি এই গবেষণার সূত্রপাত ঘটায়। ডেনমার্কের ওই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক দল বেশি হলে বিদ্যমান নির্বাচনী কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যে বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে ভোটারদের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে আসন পাওয়ার হারে যে বিশাল বৈষম্য দেখা যায়, সেটিও এই গাণিতিক সীমাবদ্ধতারই প্রতিফলন। তবে গবেষকরা পুরোপুরি হাল ছেড়ে দেননি। তারা ‘জিওগ্রাফিক্যালি র্যাঙ্কড গ্যারান্টিড প্রপোর্শনালিটি’ নামে নতুন একটি ভোটিং পদ্ধতির প্রস্তাব করেছেন। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী আসন বরাদ্দ করা হবে। এর ফলে আনুপাতিক ফলাফল নিশ্চিত হলেও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব কিছুটা সংকুচিত হতে পারে। গবেষকদের মতে, নিখুঁত ব্যবস্থা অসম্ভব হলেও গাণিতিক সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি সুষম ও কার্যকর নির্বাচন কাঠামো তৈরি করতে পারে। তাদের এই গবেষণাপত্রটি ‘অ্যানালস অফ অপারেশনস রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।