বাংলাদেশের দিনাজপুরে কাজী নজরুল ইসলামের পদচারণা নিয়ে প্রচলিত ধারণায় বড় ধরনের সংশোধনী এসেছে। নজরুল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় পাওয়া নতুন দলিল ও তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষক ড. আবু হেনা আবদুল আউয়াল প্রমাণ করেছেন যে, ১৯২৬ সালে কবি অন্তত দুইবার দিনাজপুর সফর করেছিলেন। এই তথ্য তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসবিদদের কাছে শুধু ১৯২৬ সালের জুন মাসের সফরটিই পরিচিত ছিল। কিন্তু ড. আবু হেনা আবদুল আউয়ালের ‘বাংলাদেশে নজরুল সফর ও সংবর্ধনা’ গ্রন্থে সংকলিত ১ মার্চ ১৯২৬ সালের একটি চিঠিতে দেখা যায়, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও নজরুল ৬ মার্চ দিনাজপুরের জেলা প্রজা কনফারেন্সে যোগ দিতে রওনা হয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি নিজেই তার এই সফরের পরিকল্পনা ও শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
৯ মার্চ চেরাডাঙ্গিতে আয়োজিত সেই সম্মেলনে নজরুল উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। তৎকালীন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন প্রমাণ করে যে, এটি কোনো সাধারণ সাহিত্যসভা ছিল না, বরং কৃষক-প্রজা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। ১০ মার্চ তিনি মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে দিনাজপুর ত্যাগ করেন।
এর পাশাপাশি জুন মাসের সফরটি ছিল দ্বিতীয়বার দিনাজপুরে তার উপস্থিতি। তৎকালীন ‘দিনাজপুর পত্রিকা’-র জুলাই ১৯২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১৭ জুন নজরুল ও হেমন্ত কুমার সরকার দিনাজপুরে শ্রমিক সংগঠনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। ড্রামেটিক ক্লাব মাঠে নজরুল উদ্দীপনামূলক গান গেয়েছিলেন।
দিনাজপুর কারাগার নিয়ে প্রচলিত জনশ্রুতি সম্পর্কে গবেষকরা জানিয়েছেন, সাহিত্যিক অজিত কুমার গুহের স্মৃতিকথায় নজরুলের কারাভোগের যে উল্লেখ রয়েছে, তা মূলত লোকমুখে শোনা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো নথিতে এর সরাসরি প্রমাণ মেলেনি। তাই এ বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন।
আগামী ২০২৬ সালে দিনাজপুরে নজরুলের আগমনের শতবর্ষ পূর্ণ হতে চলেছে। গবেষকদের মতে, নতুন প্রাপ্ত এই দলিলগুলো কবির জীবন ও রাজনীতির নতুন ব্যাখ্যা তৈরিতে সহায়ক হবে। শতবর্ষ স্মরণে স্থানীয় পর্যায়ে তার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো চিহ্নিত করা এবং নতুন নথিপত্র সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।