ডেনমার্কের হেলসিংগোর শহরে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশ্বের শতাধিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (জেডব্লিউএসটি) মাধ্যমে পাওয়া মহাবিশ্বের আদি পর্যায়ের রহস্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২০২২ সালে টেলিস্কোপটি সক্রিয় হওয়ার পর থেকে মহাকাশে যে নতুন তথ্য ও ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তা মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরুর কয়েক বিলিয়ন বছর সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পুরনো তত্ত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোপেনহেগেনের কসমিক ডন সেন্টারের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী শার্লট ম্যাসন জানান, এই টেলিস্কোপের ছবিতে শত শত ছোট লাল বিন্দু দেখা যাচ্ছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন বছর পর থেকেই এই রহস্যময় বস্তুগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের ধারণা, এগুলো সম্ভবত ঘন গ্যাস দ্বারা আবৃত কৃষ্ণগহ্বর বা নতুন কোনো মহাজাগতিক বস্তু হতে পারে।
জেডব্লিউএসটির পর্যবেক্ষণে এমন কিছু ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা তাদের বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক বড়। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী জেনি গ্রিন জানান, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে এত বড় ব্ল্যাক হোল তৈরি হওয়া বা দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রথাগত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে গবেষকরা এখন সুপার-এডিংটন অ্যাক্রেশন বা ডিরেক্ট কোলাপস মেকানিজমের মতো নতুন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছেন, যা দিয়ে এই বিশাল আকৃতির ব্ল্যাক হোলগুলোর রহস্য সমাধান সম্ভব হতে পারে।
এছাড়া টেলিস্কোপের পাঠানো ছবিতে আদি গ্যালাক্সিগুলোর উজ্জ্বলতা বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে। ফ্ল্যাটআইরন ইনস্টিটিউটের গবেষক র্যাচেল সমারভিল উল্লেখ করেন, গ্যালাক্সি গঠনের বর্তমান সিমুলেশনগুলো এখন অনেক বেশি নির্ভুল হচ্ছে। একই সাথে প্যারিস ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের হাকিম আটেক জানান, আদি গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য অনেক বেশি, যা আগে ভাবা হয়েছিল যে সব গ্যালাক্সি একই রকম হবে।
মহাবিশ্বের শুরুর এই অন্ধকার যুগ শেষ হওয়া এবং প্রথম নক্ষত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া থেকে আমরা আজ যে উপাদানে গঠিত, তার উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আরও গভীর ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এলসিনোর দুর্গের কাছে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক সেই ধূলিকণা থেকে মানব অস্তিত্বের সন্ধানে তাদের নতুন আবিষ্কারগুলো তুলে ধরেন, যা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।