ভারতের মুম্বাইয়ের ভারসোভা উপকূলের ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে দেশটির ১৮টি আন্তঃমহাদেশীয় সাবমেরিন ক্যাবলের অন্তত ১৩টি এসে যুক্ত হয়েছে। এই অঞ্চলটি ভারতের ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এখান দিয়েই ইউরোপ, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ট্রাফিকের ৯৫ শতাংশ পরিবাহিত হয়। তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ অন্বেষা সেনের মতে, এই ভৌগোলিক ঘনত্বের কারণে দুর্ঘটনাজনিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো কারণে ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হলে ভারতের বিশাল অংশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে পড়বে।
যদিও ট্রাফিক ডাইভারশন বা বিকল্প রুটে ডেটা পাঠানোর প্রযুক্তি রয়েছে, তবুও সামান্য বিলম্ব বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সরকারি নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের জন্য উচ্চগতির ডেটা সরবরাহ অপরিহার্য, যা এই কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে ভারত বিশ্বের মোট ডেটা ব্যবহারের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বিশ্বের মাত্র ৩ শতাংশ। ব্রডব্যান্ড ইন্ডিয়া ফোরামের (বিআইএফ) চেয়ারপারসন অরুনা সুন্দররাজনের মতে, ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের পেছনে এটি একটি বড় প্যারাডক্স। একদিকে ভারত ইন্টারনেট পাওয়ার হাউজ হয়ে উঠছে, অন্যদিকে এই যোগাযোগের মূল ভৌত অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ খুবই সামান্য।
বর্তমানে ভারতের ১৮টি আন্তর্জাতিক ক্যাবলের মধ্যে ১১টিই ২০ বছরের বেশি পুরনো, যা তাদের প্রায় ২৫ বছরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ক্যাবল মেরামতের ক্ষেত্রেও ভারত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ভারতের নিজস্ব কোনো সাবমেরিন ক্যাবল মেরামতকারী জাহাজ নেই। ফলে মেরামতের জন্য দুবাই বা সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজ আনা ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ার জটিলতায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়।
এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে ক্যাবল স্থাপন ও মেরামতের জন্য অন্তত ১৬টি ভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সরকার ইতোমধ্যে সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমকে গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে। নতুন ক্যাবল প্রকল্পগুলো এখন চেন্নাই ও মছিলিপত্তনমের মতো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মুম্বাইয়ের ওপর চাপ ও ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।