যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লুস্কির নতুন স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন টনি স্নাইডার। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হিসেবে স্বল্প সময় দায়িত্ব পালনের পর এবার তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরেছেন। ব্লুস্কির এই নতুন নেতৃত্ব ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে দ্য ভার্জের ডিকোডার পডকাস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
ব্লুস্কির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সিইও জে গ্রেবার এখন প্রতিষ্ঠানটির চিফ ইনোভেশন অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। টনি স্নাইডার জানান, প্রতিষ্ঠানটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তার অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্নাইডার এর আগে অটোম্যাটিক-এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ওয়ার্ডপ্রেসের মতো ওপেন-সোর্স প্রজেক্টের সাথে যুক্ত ছিলেন। তার মতে, ব্লুস্কির ভিশন বা লক্ষ্য কেবল একটি অ্যাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি উন্মুক্ত প্রোটোকল ‘এটি প্রোটোকল’ (AT Protocol) দ্বারা পরিচালিত, যা ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
টনি স্নাইডার মনে করেন, ব্লুস্কি বর্তমানে একটি সামাজিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে, যা অনেকটা ‘বাবল’ বা বুদবুদের মতো। তিনি এই ছোট পরিসর থেকে বেরিয়ে প্ল্যাটফর্মটিকে সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘বিগ টেন্ট’ বা বিশাল ছাতার মতো তৈরি করতে চান। তিনি দাবি করেন, ব্লুস্কি কেবল বিজ্ঞাপন বা অ্যালগরিদমনির্ভর নেটওয়ার্ক নয়, বরং একটি মানবকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিনি অ্যাপটিকে একটি ওপেন ইকোসিস্টেম হিসেবে দেখেন, যেখানে হাজার হাজার ডেভেলপার তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্নাইডার জানান, ব্লুস্কি এখন ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং প্রাইভেট কমিউনিটি গড়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে অ্যাপটি প্রধানত পাবলিক বা উন্মুক্ত ব্যবহারের জন্য পরিচিত, তবে শীঘ্রই এতে ব্যক্তিগত সদস্যপদ-ভিত্তিক গ্রুপ তৈরির সুবিধা যুক্ত করা হবে। এছাড়া, এই বছরেই প্রতিষ্ঠানটি আয়ের নতুন উৎস বা মনিটাইজেশন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। স্নাইডার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ক্রিপ্টো স্কিম বা বিতর্কিত বিজ্ঞাপনের পথে হাঁটবেন না।
প্রোটোকলের স্বাধীনতা
ব্লুস্কির নতুন সিইও জানিয়েছেন, তারা প্রোটোকলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চান না। বরং এটিকে ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স (IETF)-এর মতো একটি নিরপেক্ষ কাঠামোর অধীনে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এটি নিশ্চিত করবে যে, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা মালিকের একক নিয়ন্ত্রণে যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি বন্দি না হয়ে পড়ে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো, ইন্টারনেটের অন্যান্য স্ট্যান্ডার্ডের মতো এটিকেও একটি উন্মুক্ত ও বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যা দীর্ঘ কয়েক দশক টিকে থাকবে।