যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) তাদের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এর প্রভাবশালী অ্যাকাউন্টগুলোর পোস্ট দ্রুত পাওয়ার জন্য একটি নতুন পেইড সার্ভিস চালু করেছে। এই নতুন ডেটা ফিড সার্ভিসের নাম ‘ট্রুথ এপিআই’, যা উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারী এবং ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে পোস্টের অ্যাক্সেস দেবে। টিএমটিজি এই পদক্ষেপকে রাজস্ব বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে দেখছে।
যেভাবে কাজ করবে এই সেবা
এই সেবাটি মূলত হাই-ফ্রিকোয়েন্সি এবং অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং ফার্মগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান সেকেন্ডের ভগ্নাংশে ট্রেডিং সম্পন্ন করতে অভ্যস্ত। যদিও টিএমটিজি সরাসরি বলেনি যে এই সেবায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পোস্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে কিনা, তবে ১৩ মিলিয়ন ফলোয়ারসহ তার অ্যাকাউন্টটি সাইটের সবচেয়ে প্রভাবশালী হওয়ায় তা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সেবার জন্য গ্রাহকদের মাসে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত গুনতে হতে পারে।
আইনগত ও নৈতিক বিতর্ক
এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং অ্যাডাম শিফ দেশটির সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে চিঠি লিখে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী। এছাড়া, এই সেবার মাধ্যমে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
টিএমটিজির অবস্থান
টিএমটিজি কর্তৃপক্ষ সিনেটরদের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এটি মুক্ত বাজারের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোম্পানিটির ভাষ্যমতে, জনসমক্ষে আসা তথ্য নিয়ে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এদিকে, রিচার্ড পেইন্টারের মতো বিশেষজ্ঞসহ অনেকে বলছেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগে অর্থের বিনিময়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।