যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ডেন্টাল মেডিসিনের গবেষকরা মাথা ও গলার ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জীবাণু মোকাবিলায় একটি বিশেষ বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড চুইংগাম উদ্ভাবন করেছেন। গবেষক দলের প্রধান হেনরি ড্যানিয়েল জানিয়েছেন, এই চুইংগাম মানবদেহে এইচপিভি (HPV) ভাইরাসের উপস্থিতি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে কার্যকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই চুইংগাম মুখ ও গলার ক্যান্সার বা এইচএনএসসিসি (HNSCC) এর সাথে জড়িত ভাইরাস এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নির্মূলে কাজ করে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এই চুইংগামের নির্যাস ব্যবহারের ফলে এইচপিভি ভাইরাসের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি ক্যান্সার বিস্তারে সহায়ক দুটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়াও প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এই পদ্ধতি।
কেন এই উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ
মাথা ও গলার ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে পরিচিত। প্রচলিত চিকিৎসায় রোগীদের জীবনযাত্রার মানের তেমন উন্নতি হয় না এবং মৃত্যুর হারও বেশি। হেনরি ড্যানিয়েল উল্লেখ করেন, বিদ্যমান চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি এই চুইংগাম একটি সাশ্রয়ী এবং কার্যকর সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে কাজ করতে পারে।
সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, এই চুইংগাম মুখের উপকারি ব্যাকটেরিয়াগুলোর কোনো ক্ষতি করে না, যা রেডিয়েশন থেরাপির মতো প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে আলাদা। এটি দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ রোধ এবং ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গবেষকরা এখন এই পদ্ধতিটিকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এটি সফল হলে ভবিষ্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং সংক্রমণের বিস্তার রোধে সহজলভ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।