কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজুর বসতবাড়িতে মাদক উদ্ধারের নামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে এই অভিযান চালিয়েছিলেন কি না, তা যাচাই করতেই এই কমিটি করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
গত ৩ সেপ্টেম্বর রৌমারীর এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়ে সাংবাদিক সাজুর বাড়িতে তল্লাশি চালান। অভিযানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি, তবে তল্লাশির নামে বাড়িঘরের মালামাল তছনছ করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে গত বুধবার এসিল্যান্ডকে ফোনে প্রশ্ন করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। সেই আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। রৌমারীর ইউএনও মাহবুবুল হাসান জানান, এসিল্যান্ড তাকে কোনো কিছু না জানিয়েই ওই অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে ইতিমধ্যে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।