যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরব, ওমান এবং ইরাকের কাছে প্রায় ৬১০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই তিন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের কাছে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় চুক্তিটি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে, যার মূল্য ৫ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির আওতায় রিয়াদ ১০ হাজারের বেশি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জে-ড্যাম) কিট এবং সমপরিমাণ ৫০০ পাউন্ড ও ২,০০০ পাউন্ডের সাধারণ বোমা কিনবে। এসব বোমা জে-ড্যাম কিটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে পরিণত হয়। বোয়িং কোম্পানি এই অস্ত্র সরবরাহ করবে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় এই অস্ত্র কেনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এর পাশাপাশি সৌদি আরবের কাছে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের ৬০টি এম১ আব্রামস ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন বিক্রিরও অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে হানিওয়েল।
ওমান ও ইরাকের জন্য বরাদ্দ
ওমানের কাছে ১৮৮ মিলিয়ন ডলারের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও এই চুক্তিতে কোনো প্রধান ঠিকাদারের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে মার্কিন সরকার বা চুক্তিবদ্ধ বিক্রেতারা এই সহায়তা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, ইরাকের কাছে ১৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বেল ৪১২ইপিএক্স হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বেল-টেক্সট্রন কোম্পানি এই হেলিকপ্টারগুলো সরবরাহ করবে। এর আগে সোমবারও ইরাকের জন্য ৮০০ মিলিয়ন ডলারের হেলিকপ্টার বিক্রির একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পররাষ্ট্র দপ্তরের এই অনুমোদন চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নোটিশ জারির পর আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আইনপ্রণেতারা চাইলে এই প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারেন, তবে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। আলোচনার ভিত্তিতে চুক্তির পরিমাণ ও অর্থের অংকে পরিবর্তন আসতে পারে।