যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে টেসলার নতুন চালকবিহীন গাড়ি সাইবারক্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে। তবে এই উদ্যোগের পরপরই মার্কিন ফেডারেল সরকার গাড়িটির নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। গাড়িটিতে স্টিয়ারিং হুইল এবং ব্রেক প্যাডেল না থাকায় এটি প্রচলিত নিরাপত্তা আইন মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
টেক্সাস ও ফ্লোরিডার নির্দিষ্ট কিছু শহরে টেসলা তাদের রোবট্যাক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করছে। অস্টিনে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে এই যানের যাত্রা শুরু হলেও ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সাধারণত কোনো কোম্পানি যদি প্রথাগত যন্ত্রাংশবিহীন চালকবিহীন যান রাস্তায় নামাতে চায়, তবে তাদের ফেডারেল নিয়ম থেকে বিশেষ ছাড় নিতে হয়। অ্যামাজনের মালিকানাধীন জুকস নামের প্রতিষ্ঠানটি এমন ছাড় নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে টেসলা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের যান বিদ্যমান সব নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়েছে, তাই কোনো বিশেষ ছাড়ের প্রয়োজন নেই।
এনএইচটিএসএ তাদের অডিট প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখছে টেসলা ঠিক কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সংস্থাটির প্রশাসক জোনাথন মরিসন জানিয়েছেন, তারা স্বয়ংক্রিয় যানের উন্নয়নকে সমর্থন করেন, তবে ফেডারেল আইন মেনে চলা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাবেক এনএইচটিএসএ প্রশাসক অ্যান কার্লসন মনে করেন, টেসলার এই সিদ্ধান্ত ফেডারেল সংস্থাটিকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমন তদন্তের ফলে টেসলাকে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জরিমানা বা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। এর আগে ভলভো গ্রুপকে তাদের রিকল প্রক্রিয়ার বিষয়ে তদন্তের পর বড় অংকের জরিমানা গুনতে হয়েছিল।
টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বদলে কোম্পানিটিকে রোবোটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। বর্তমানে টেক্সাসে ৪৫টি সাইবারক্যাব সচল থাকলেও ভবিষ্যতে লাখ লাখ গাড়ি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে টেসলার।