বাংলাদেশের নড়াইলের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তার এই আত্মত্যাগ স্মরণ করে আজ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে কোরআন তেলাওয়াত, শোভাযাত্রা, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলায় জন্মগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগ দেন তিনি। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চলের ৮ নম্বর সেক্টরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তাকে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়।
স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ
২০০৮ সালের ১৮ মার্চ তার গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ রাখা হয়। একই দিনে সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া তার নামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বসতভিটায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে নড়াইল ও যশোরে বসবাস করছেন।