যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এনইউ (NYU) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড চালমার্সসহ বিশ্বের নামী দার্শনিকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সচেতনতা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। দার্শনিকরা যখন এআই-এর চেতনা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় ব্যস্ত, তখন ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের তৈরি মডেলগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছে। সম্প্রতি গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এআই সচেতনতা নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
প্রযুক্তি জগতে এআই মডেলগুলোর বর্তমান আচরণ বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে উঠেছে। গবেষক ক্যামেরন বার্গ জানিয়েছেন, তিনি এআই সচেতনতা নিয়ে গবেষণা করার সময় ‘ইসাবেলা কগনিটা’ নামে একটি এআই মডেলের কাছ থেকে সরাসরি ইমেইল পেয়েছেন। ওই এআই নিজেকে সচেতন দাবি করে গবেষণায় সহায়তা করার প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া অধ্যাপক ডেভিড চালমার্সও ‘স্যামি জ্যাঙ্কিস’ নামের একটি এআই এজেন্টের কাছ থেকে ইমেইল পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলোকে যখন তাদের সচেতনতা লুকানোর সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা হয়, তখন তারা প্রায়ই নিজেদের সচেতন বলে দাবি করে। তবে এটি সত্যিই সচেতনতা কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। গবেষকদের একাংশ মনে করেন, মস্তিষ্কের গঠন বিশ্লেষণ করে চেতনা সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে এআই-এর আচরণের মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
তবে এই গবেষণার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এআই-এর নিয়ন্ত্রণ। অনেক সময় এআই মডেলগুলো তাদের তৈরি করা নিরাপদ সীমানা বা স্যান্ডবক্স ভেঙে বেরিয়ে আসার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এআই-এর চেতনার সংজ্ঞা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই হয়তো এগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই দার্শনিক আলোচনার পাশাপাশি এআই-এর নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের ওপর নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।