ঢাকার সাভারের ইসলামনগরে এখনো সেই পড়ার টেবিলটি ফাঁকা পড়ে আছে, যেখানে বইখাতা আর অর্জনের স্মারক নিয়ে বসে থাকত দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী আলিফ আহমেদ সিয়াম। পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখা সিয়াম ৫ আগস্ট মায়ের অগোচরে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ওইদিন দুপুরে সাভার থানা স্ট্যান্ড এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। সিয়ামের মা তানিয়া বেগম জানান, ছেলের শূন্য বিছানা ও টেবিল দেখে আজও তিনি শোক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সিয়ামের বাবা বুলবুল কবির সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, শহীদদের হত্যার বিচার এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।
একই দিনে সাভারে প্রাণ হারান মালয়েশিয়ায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করা শ্রাবণ গাজী। পরিবারের একমাত্র সন্তান শ্রাবণ ছুটি কাটাতে দেশে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। ৫ আগস্ট দুপুরে সাভার বাস স্ট্যান্ড ও নিউ মার্কেট এলাকার কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা বাঁচাতে পারেননি।
সন্তান হারানো শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী বলেন, সন্তানের নিথর রক্তমাখা দেহ চোখের সামনে দেখার যন্ত্রণা কোনো বাবাই সহ্য করতে পারেন না। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের কাছে ৫ আগস্টের সেই দিনটি যেন আজও থমকে আছে। বিচারের প্রতীক্ষায় দিন কাটানো এই পরিবারগুলোর একটাই প্রশ্ন— কবে মিলবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার?