জাপানের টোকিও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসের বরফকণা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। শনির এই উপগ্রহ থেকে মহাকাশে যে বরফ ও জলীয় বাষ্পের কণা ছড়িয়ে পড়ে, তা মূলত উপগ্রহটির ভেতরে থাকা গোপন সমুদ্র থেকে আসে। গবেষকরা বলছেন, এই বরফকণাগুলো মহাকাশে যাওয়ার পথে প্রাকৃতিকভাবেই সমুদ্রের পানি থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান আলাদা ও ঘনীভূত করে ফেলে, যা ভবিষ্যতে প্রাণের সন্ধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাসিনি মহাকাশযানের তথ্য বিশ্লেষণ
২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান এনসেলাডাসের ই-রিং থেকে সংগৃহীত বরফকণা পর্যবেক্ষণ করে। ফ্রেই ইউনিভার্সিটি বার্লিনের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক পোস্টবার্গের নেতৃত্বে গবেষকরা ৯৬১টি বরফকণার ভর বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায়, কণাগুলোর রাসায়নিক গঠন খুবই বৈচিত্র্যময়। কোনোটিতে সোডিয়াম ক্লোরাইডের আধিক্য রয়েছে, আবার কোনোটিতে কার্বনেট বা ফসফেটের উপস্থিতি বেশি। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতে গিয়েই গবেষকরা নতুন এই প্রক্রিয়ার সন্ধান পান।
গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
টোকিও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের অধ্যাপক ইয়াসুহিতো সেকিনে এবং তার সহকর্মীরা এনসেলাডাসের সমুদ্রের পানির অনুকরণে পরীক্ষাগারে ছোট ছোট ফোঁটা তৈরি করেন। তারা দেখেন, এসব ফোঁটা যখন ধীরে ধীরে জমে বরফে পরিণত হয়, তখন তার ভেতরে থাকা লবণ ও অন্যান্য উপাদান আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু দ্রুত জমে গেলে উপাদানগুলো মিশ্রিত থাকে। গবেষকরা মনে করছেন, এনসেলাডাসের অভ্যন্তরে বরফের ফাটল দিয়ে পানি ধীরগতিতে ওঠার সময় তা ধীরে ধীরে জমে যায়। এর ফলে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান আলাদা হওয়ার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে বরফের কণাগুলো ভেঙে ছোট ছোট টুকরো হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়।
প্রাণ অনুসন্ধানে প্রভাব
এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক উপাদানগুলো ঘনীভূত হওয়ায় মহাকাশযানের জন্য সেগুলো শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে। পৃথিবীতে ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহের আগে যেভাবে রাসায়নিক উপাদান আলাদা ও ঘনীভূত করা হয়, এনসেলাডাস যেন প্রাকৃতিকভাবেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এই আবিষ্কার শুধু ক্যাসিনির সংগৃহীত তথ্যের রহস্যই সমাধান করেনি, বরং ভবিষ্যতে এনসেলাডাসের প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।