যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর জন হিলি জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে হুমকি দিয়েছেন, যা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটির ডিজেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
ডিজেলের উচ্চমূল্য ও সংকট
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। সোমবার যুক্তরাজ্যে ডিজেলের গড় মূল্য প্রতি লিটারে ১৯৯.৩৩ পেন্স ছুঁয়েছে, যা ২০২২ সালের জুন মাসের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। আরএসি মোটর অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন এক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছেন।
ব্রিটিশ সরকারের করণীয়
জন হিলি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নিজস্ব মজুত মজবুত করার পরিকল্পনা করছে। লিভারপুলে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী নিরসন সম্ভব। ২৮ অক্টোবর বাজেট ঘোষণার আগে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে জ্বালানি শুল্ক বাড়ানোর যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ কাটছে না।