ঢাকাWednesday , 5 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার কি দমকলকর্মীদের বিকল্প হতে পারে?


August 5, 2026 5:00 pm
Link Copied!

ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও দমকলকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এই গ্রীষ্মে ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালে দাবানলে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ফ্রান্সে দাবানল নেভাতে গিয়ে ইতিমধ্যে চারজন দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের মতো দাবানল নিয়ন্ত্রণে কেন ড্রোন বা উন্নত প্রযুক্তি পুরোপুরি মানুষের জায়গা নিতে পারছে না।

দীর্ঘ ২৪ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দমকলকর্মী এবং জিরোন্দ অঞ্চলের সিএফডিটি ইউনিয়নের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের চিফ সার্জেন্ট গুইলাম মিলেট জানিয়েছেন, আগুন নেভানোর সনাতন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন না এলেও আগুন শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আগে প্রতিটি এলাকায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে শিক্ষার্থী বা কর্মীরা নজরদারি চালাতেন। এখন সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংবলিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরা ধুলোবালি ও ধোঁয়ার পার্থক্য সহজে বুঝতে পারে এবং ২০ কিলোমিটার দূর থেকে আগুনের উৎস শনাক্ত করতে সক্ষম।

মিডগার্ড ও ফায়ারট্র্যাকিংয়ের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রান্সে এমন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা আগুন লাগার সাথে সাথে দমকলকর্মীদের ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও ফুটেজ ও ম্যাপসহ সতর্কবার্তা পাঠায়। ফায়ারট্র্যাকিংয়ের সিইও জঁ-সিমোন শদিয়ের জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্তত ১৫ মিনিট আগে আগুন শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সহায়ক।

আগামী দিনে প্রযুক্তির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্রান্সের সিভিল প্রোটেকশন সার্ভিসের ‘কন্ডোর’ কর্মসূচির আওতায় সৌরশক্তিচালিত ড্রোনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এছাড়া স্পেনও সেনফোরফায়ার প্রকল্পের মাধ্যমে গাছের মধ্যে সেন্সর বসিয়ে আগুনের উপস্থিতি পরিমাপের কাজ করছে। দাইদেলোস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১.২ টন পানি বহনকারী ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে মাঠপর্যায়ে দমকলকর্মী গুইলাম মিলেট মনে করেন, প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মতে, ক্যামেরা বা ড্রোন আগুন শনাক্ত করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বনে ঢুকে হোসপাইপ টেনে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর কাজ মানুষকেই করতে হয়। বিমান বা ড্রোন আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমাতে পারলেও দমকলকর্মীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।