যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বোল্ডারে নাসার সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন, নাসার পোলারমিটার টু ইউনিফাই দ্য করোনা অ্যান্ড হেলিওস্ফিয়ার (পাঞ্চ) মিশন এখন থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা সৌরঝড় বা সোলার স্টর্মের সময় নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। এই মিশনের প্রধান তদন্তকারী ক্রেইগ ডিফরেস্ট একে আধুনিক মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে নাসা পাঞ্চ মিশন চালু করে। এর আওতায় চারটি মাইক্রোস্যাটেলাইটের একটি দল সার্বক্ষণিক সূর্যের ওপর নজরদারি করছে। এই স্যাটেলাইটগুলো সূর্যের করোনা থেকে নির্গত উপাদান বা করোনার মাস ইজেকশন (সিএমই) ট্র্যাক করতে পারে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ মে একটি সিএমই-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে সৌরঝড় পৃথিবীতে পৌঁছানোর সময় নির্ধারণ করা হয়। দেখা গেছে, ১২ ঘণ্টার ডেটা বিশ্লেষণের পর সিস্টেমটি আট ঘণ্টা পরের পূর্বাভাস দেয়, যা মাত্র আধা ঘণ্টার পার্থক্যে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে এই পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ ঘণ্টার মতো ত্রুটি থাকে।
পাঞ্চ মিশন সূর্যের থেকে পৃথিবীর দূরত্ব পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথের প্রতিটি মুহূর্ত ট্র্যাক করতে পারে এবং প্রতি চার মিনিটে নতুন ছবি তুলতে সক্ষম। আগেকার যন্ত্রপাতি দিয়ে এই যাত্রাপথের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ পর্যবেক্ষণ করা যেত।
সৌরঝড় পৃথিবীতে পৌঁছালে তা বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর ফলে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। পাঞ্চ মিশনের এই সূক্ষ্ম পূর্বাভাস ব্যবস্থা ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষকরা তাদের এই প্রাপ্তি নিয়ে একটি গবেষণাপত্র স্পেস ওয়েদার জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দিয়েছেন।