ইতালির মিলানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় প্রায় ৭০০ সামরিক সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইলেও বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা একে পার্লামেন্টের কর্তৃত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত সপ্তাহে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি টাস্ক ফোর্সের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে। এর আগে স্থানীয় সংবাদপত্র ‘ইল জিওর্নালে’ এই মিশনের আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনার পর গত মার্চ মাস থেকে প্রায় ৪০০ বিমান বাহিনীর সদস্য ওই অঞ্চলে কাজ করছেন। ‘টাস্ক ফোর্স এয়ার-আরাবিয়া’র আওতায় চারটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান, ই-৫৫০এ সিএইডব্লিউ আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফট এবং কেসি-১৩০জে পরিবহন বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে মোতায়েন করা হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা।
বিমান বাহিনীর পাশাপাশি ইতালীয় সেনাবাহিনী থেকে প্রায় ২৬০ জন সদস্যকে ‘টাস্ক ফোর্স ল্যান্ড-আরাবিয়া’র অধীনে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে নিযুক্ত ইতালির সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৭০০ জন। সেন্টার ফর মিলিটারি মেরিটাইম স্টাডিজের গবেষক মাতেও মাজ্জিওত্তি দি সেলসো জানান, এটি ইতালির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সামরিক মোতায়েন। এতে বেশ কিছু অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা দাবি করেছেন, পার্লামেন্টকে অন্ধকারে রেখে এভাবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সৈন্য পাঠানো অগ্রহণযোগ্য। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো যুক্তি দিয়েছেন, গত ৫ মার্চ পার্লামেন্টে গৃহীত রেজুলেশনের ভিত্তিতেই সরকার এই মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। তিনি জানান, বিদ্যমান আইনের আওতায় সরকার এই বিশেষ ভৌগোলিক এলাকায় সামরিক সম্পদ ও জনবল স্থানান্তর করার অধিকার রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মিশন ইতালির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এটি ইরানবিরোধী সক্ষমতা যাচাই এবং ড্রোন প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ইতালির নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।