যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বুধবার সকালে কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই কোম্পানিটি তার প্রথম আয়ের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় স্পেসএক্সের ত্রৈমাসিক আয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৭.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, একই সময়ে তাদের ব্যয় বেড়ে ১৮.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যয়ের সিংহভাগই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটি ২ বিলিয়ন ডলারের নিট লোকসান করেছে।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও আশাবাদী ইলন মাস্ক। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক সম্মেলনে তিনি জানান, স্পেসএক্সকে অনেকে ছোট করে দেখছে। বর্তমানে স্টারলিংক সেবাটি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং এটি থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৬ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। মাস্কের মতে, ভবিষ্যতে স্টারলিংক বিশ্বের অধিকাংশ ইন্টারনেট সেবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
পরবর্তী ধাপ ও পরিকল্পনা
স্পেসএক্স বর্তমানে গুগল ও অ্যানথ্রোপিকের মতো কোম্পানিগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউট পাওয়ার বা প্রসেসিং ক্ষমতা বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছে। বর্তমানে তাদের ১.৪ গিগাওয়াট কম্পিউট পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, যা আগামী বছর ১০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্পেসএক্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ব্রেট জনসন জানিয়েছেন, বছরের বাকি সময়টাতেও মূলধনী ব্যয় একই হারে অব্যাহত থাকবে। তবে ইলন মাস্কের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যেই কোম্পানিটির আয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা তার আগের লক্ষ্যের চেয়ে এক বছর এগিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতামত
হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের ইকুইটি অ্যানালিস্ট ম্যাট ব্রিৎজম্যানের মতে, স্পেসএক্স দ্রুতই একটি এআই অবকাঠামো কোম্পানিতে পরিণত হচ্ছে, যার সাথে মহাকাশ গবেষণার ব্যবসা যুক্ত রয়েছে। যদিও অনেকে মাস্কের এই পরিকল্পনায় আস্থা রাখছেন, তবুও বিনিয়োগকারীদের একাংশ কোম্পানিটির এআই খাতের ক্রমবর্ধমান লোকসান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। জুন মাসে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং বর্তমানে তা শুরুর দামের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে।