বেলজিয়ামের বাজারে ১৯ হাজার ৪৯০ ইউরো বা প্রায় ২২ হাজার ৪৯০ ডলারে গিলি অটো তাদের নতুন ইলেকট্রিক হ্যাচব্যাক ই২ বাজারে ছেড়েছে। গিলি অটোর এই নতুন পদক্ষেপটি বৈশ্বিক বাজারে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির সহজলভ্যতাকে তুলে ধরেছে। চীনের বাজারে গিলি জিংইউয়ান নামে পরিচিত এই গাড়িটি ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত মডেল ছিল এবং ২০২৬ সালেও এর আধিপত্য বজায় রয়েছে।
গিলি ই২ মডেলটির বেস প্রো ট্রিম ৩৫ কিলোওয়াট ব্যাটারি দিয়ে চলে, যা এক চার্জে প্রায় ১৫৬ মাইল পর্যন্ত চলতে পারে। এছাড়া গাড়িটিতে সাতটি এয়ারব্যাগ, ১৪.৬ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন এবং ৩৭৫ লিটারের বিশাল স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে। আরও একটি ৪৭ কিলোওয়াট ব্যাটারির সংস্করণ রয়েছে, যা এক চার্জে প্রায় ২১৪ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। তবে গিলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এই গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির অভাব রয়েছে। দেশটিতে সবচেয়ে কম দামের ইলেকট্রিক গাড়ি শেভ্রোলেট বোল্ট প্রায় ২৯ হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নিসান লিফ বা হুন্দাই কোনা ইলেকট্রিকের মতো মডেলগুলোর দাম ৩০ হাজার ডলারের উপরে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্লেট নামের একটি স্টার্টআপ ২৫ হাজার ডলারের নিচে ইলেকট্রিক পিকআপ আনার কথা বললেও, তাতে পাওয়ার উইন্ডো বা ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিনের মতো প্রয়োজনীয় অনেক ফিচার নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির ঘাটতির পেছনে নীতিগত কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিলের কারণে আমেরিকানদের উচ্চমূল্য দিয়ে গাড়ি কিনতে হচ্ছে। যদিও ফোর্ড এবং ফক্সওয়াগনের মতো কোম্পানিগুলো সাশ্রয়ী মডেল আনার কাজ করছে, কিন্তু ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই সরাসরি রাস্তায় নামার জন্য প্রস্তুত নয়।