যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটা তাদের নতুন কোডিং এজেন্ট ‘মিউস কোড’-এর বেটা সংস্করণ উন্মোচন করেছে। অ্যানথ্রপিকের ক্লদ কোড এবং ওপেনএআই-এর কোডেক্স-এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই টার্মিনাল-ভিত্তিক টুলটি তৈরি করা হয়েছে। মেটার এআই মডেল ‘মিউস স্পার্ক ১.২’-এর ওপর ভিত্তি করে এটি কাজ করে, যা কোড তৈরি, জটিল ডিবাগিং ও কোডবেস বুঝতে সক্ষম।
মিউস কোডের কার্যকারিতা
অন্যান্য এআই কোডিং এজেন্টের মতো মিউস কোডও টেক্সট প্রম্পটের মাধ্যমে সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে। এটি কোড লেখা, পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা এবং ফলাফল যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কাজগুলো সম্পন্ন করতে সক্ষম। টুলটি একাধিক সাব-এজেন্ট পরিচালনা করে কার্যকরভাবে কাজ ভাগ করে দিতে পারে। মেটা এর কার্যকারিতা প্রদর্শনের জন্য ফটোন স্ফিয়ারের মডেল তৈরি এবং ছোট গেম তৈরির ডেমো ভিডিও প্রকাশ করেছে।
সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটা তাদের টুলটির দাম বেশ সাশ্রয়ী নির্ধারণ করেছে। সাধারণত প্রতি মিলিয়ন ইনপুট টোকেনের জন্য ১.২৫ ডলার এবং আউটপুট টোকেনের জন্য ৪.২৫ ডলার খরচ হবে। মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ওয়াং জানান, এর চেয়েও কম খরচে ‘কন্ট্রিবিউটর টিয়ার’ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এই টিয়ারের ব্যবহারকারীদের বিনিময়ে টুলটির মান উন্নয়নে ফিডব্যাক দিতে হবে, যেখানে খরচ হবে প্রতি মিলিয়ন ইনপুট টোকেনে মাত্র ১০ সেন্ট।
বাজারের গুরুত্ব
অ্যানথ্রপিকের সোনেট ৫ মডেলের তুলনায় মেটার এই নতুন টুলটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী। ডেভেলপার ও কোম্পানিগুলোর জন্য খরচের পার্থক্য বড় একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। ইতিপূর্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খরচ কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠান মার্কিন টুলের পরিবর্তে ডিপসিকের মতো চীনা মডেলের দিকে ঝুঁকেছিল, যা মেটার এই নতুন উদ্যোগকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।