ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন, যদিও দেশে তার বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রয়েছে। বুধবার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় এক অডিও বার্তায় তিনি জানান, ভাগ্য যাই হোক না কেন তিনি তার জনগণের কাছে ফিরে যেতে চান। তার এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তার নির্বাসনকালের দুই বছর পূর্তিতে এসেছে এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়েন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। বুধবারের এই অনুষ্ঠানে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, তাকে আটক করা হতে পারে বা কারাগারে পাঠানো হতে পারে, এমনকি সাজানো মামলায় দেওয়া রায় কার্যকর করার চেষ্টা করা হতে পারে, তবে ভয় তাকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখতে পারবে না।
২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ওই সময়কার সহিংসতাকে শেখ হাসিনা ‘সমন্বিত আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা চালিয়েছিল, যা শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের কঠোর আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর ২০২৫ সালে ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি এই রায়কে আইনত বাতিল বলে দাবি করেছেন। অধ্যাপক আলী রিয়াজ জানান, দেশে ফিরলে আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠাতে হবে, কারণ তিনি একজন পলাতক আসামি এবং তার রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল হয়নি।
এদিকে এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আয়োজনের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে এমন আয়োজনের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।