ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সম্প্রতি রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলায় তাদের কৌশল ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে রাশিয়ার আকাশপথের আক্রমণ কৌশল অনেক বেশি পরিবর্তনশীল ও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাকে পরাস্ত করতে কয়েকশ ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন, ডিকয় ড্রোন এবং রেকর্ড পরিমাণ ব্যালেস্টিক মিসাইল ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন তাদের উচ্চমূল্যের প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (SHORAD) জোরদার করেছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মোবাইল টিমগুলো এখন অত্যন্ত সফলভাবে রাশিয়ার গেরান ড্রোনগুলো প্রতিহত করছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ব্রঙ্ক জানিয়েছেন, ড্রোন মোকাবিলার জন্য ইউক্রেন এখন হেলিকপ্টার ও ছোট বিমানের ওপর মেশিনগান বসিয়ে সেগুলোকে গানশিপ হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তারা সাশ্রয়ী পথ বেছে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দামি মিসাইলের বদলে বিমানের নিজস্ব ২০ মিলিমিটার কামান এবং এজিআর-২০ রকেটের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। পাইলটরা যাতে বিস্ফোরিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন, সেজন্যও নতুন কৌশলের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা।
যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী ইউক্রেনের কমান্ড কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন পাইলটরা জরুরি প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় অনুমতির অপেক্ষা না করেই সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। তবে এই সফলতার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ড্রোন ইন্টারসেপ্ট করার ফলে যুদ্ধবিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমানে রাশিয়া প্রতি মাসে ৬ হাজারের বেশি ড্রোন তৈরি করায় ইউক্রেনকেও নিরন্তর নতুন ও সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।