ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল আপন টাইনে অবস্থিত ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ম্যাথিয়াস জেইসলে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে বুধবার এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরের চুক্তিতে নিউক্যাসলের দায়িত্ব পালন করবেন। এডি হাওয়ের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা জেইসলের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ম্যাথিয়াস জেইসলে এর আগে অস্ট্রিয়ার রেড বুল সালজবুর্গ এবং সৌদি আরবের আল-আহলিতে কোচ হিসেবে সফল ছিলেন। তবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের কোনো একটিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এটিই তার প্রথম। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান কোচদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। আগামী ২৩ আগস্ট লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগে তার অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব পেয়ে জেইসলে বলেছেন, ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় একটি ক্লাবের প্রধান কোচ হওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি তার দল গঠনে কঠোর পরিশ্রম, তীব্রতা এবং প্রতিদিন উন্নতির মানসিকতার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং সীমিত বাজেটের মধ্যেও বড় ক্লাবের সাথে পাল্লা দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
তত্ত্বাবধায়ক ও খেলোয়াড়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জেইসলে প্রশিক্ষণে অত্যন্ত কঠোর। মাঠে যারা শতভাগ চেষ্টা করে না, তাদের সরাসরি সমালোচনা করতে তিনি দ্বিধা করেন না। সাবেক মিডফিল্ডার জ্লাতকো জুনুযোভিচ জানান, জেইসলে খেলোয়াড়দের ভাষা বোঝেন এবং তাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে দক্ষ।
কোচ হিসেবে জেইসলের মূল কৌশল হলো হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলা। রেড বুল ঘরানার কোচিং স্টাইলে তিনি অভ্যস্ত, যা প্রিমিয়ার লিগের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে মানিয়ে নিতে তার সহায়ক হতে পারে। আল-আহলিতে থাকাকালীন কঠিন পরিস্থিতিতেও খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন তিনি। এখন প্রিমিয়ার লিগের এই কঠিন চ্যালেঞ্জে তিনি কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা।