যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসা ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট মহাকাশে পাড়ি দিতে যাওয়া এই টেলিস্কোপটির মূল লক্ষ্য মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নিয়ে গবেষণা করা। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, টেলিস্কোপটির অনন্য নকশা পৃথিবীকে গ্রহাণুর ঝুঁকি থেকে রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
কেন এই টেলিস্কোপটি গুরুত্বপূর্ণ
রোমান টেলিস্কোপে ৩০০ মেগাপিক্সেলের একটি শক্তিশালী ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ইনফ্রারেড ক্যামেরা যুক্ত রয়েছে। এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বড় এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই বিশাল ভিউ বা দেখার সক্ষমতা মহাকাশের বিস্তৃত এলাকায় লুকিয়ে থাকা গ্রহাণু শনাক্ত করতে সহায়ক হবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
টেলিস্কোপটির মাধ্যমে প্রায় ৬০ ফুট ব্যাসের ছোট গ্রহাণুও শনাক্ত করা সম্ভব। ২০১৩ সালে রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে আঘাত হানা গ্রহাণুটি প্রায় একই আকারের ছিল, যা প্রচুর শক্তি নির্গত করেছিল। বর্তমানে টেলিস্কোপটির সফটওয়্যারে কিছু পরিবর্তনের কাজ চলছে, কারণ বিদ্যমান ব্যবস্থায় গ্রহাণুকে অনেক সময় সাধারণ দাগ বা বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গ্রহাণু শনাক্তকরণে রোমান টেলিস্কোপ একা কাজ করবে না। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণ হতে যাওয়া নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট সার্ভেয়ারের পাশাপাশি এটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও ভেরা রুবিন অবজারভেটরির সাথে কাজ করবে। মহাকাশে কোনো গ্রহাণুর গতিপথ অনিশ্চিত হলে রোমান টেলিস্কোপ তার বিশাল সক্ষমতা দিয়ে দ্রুত সঠিক তথ্য বের করতে সাহায্য করবে।
এছাড়া, গত বছর বাজেট নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, গ্রহাণু সুরক্ষায় এই টেলিস্কোপের সক্ষমতা প্রমাণিত হলে তা ভবিষ্যতে আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রকল্পটির গুরুত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে। পৃথিবী এখনো বহু অজানা গ্রহাণুর হুমকির মুখে থাকায় টেলিস্কোপটির এই বাড়তি দায়িত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।