যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি ইনস্টিটিউটের গবেষকরা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিয়ে এক যুগান্তকারী তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, জন্মের আগেই মানবদেহের কিছু জয়েন্ট এই প্রদাহজনিত রোগের জন্য সংবেদনশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নেচার ইমিউনোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের দীর্ঘদিনের একটি রহস্য উন্মোচন করতে পারে—কেন এই রোগ শরীরের কিছু নির্দিষ্ট জয়েন্টকে বারবার আক্রমণ করলেও অন্যগুলোকে অক্ষত রাখে।
গবেষক দলের মতে, কেবল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই রোগ হয় না, বরং ভ্রূণ অবস্থায় জয়েন্ট গঠনের সময় সেখানে বিদ্যমান জৈবিক গঠন ও কোষের ভিন্নতাই মূলত দায়ী।
গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা আঙুলের এমন দুটি জয়েন্ট নিয়ে কাজ করেছেন, যেগুলোর মধ্যে একটিতে আর্থ্রাইটিসের প্রবণতা অনেক বেশি, অন্যটিতে কম। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব জয়েন্টে আর্থ্রাইটিস বেশি হয়, সেখানে জন্মের আগে থেকেই বিশেষ এক ধরনের কোষ ‘পিআই১৬-পজিটিভ ফাইব্রোব্লাস্ট’ এবং সাইনোভিয়াল টিস্যুর আধিক্য থাকে। এই টিস্যু ও কোষগুলো প্রদাহের প্রতি ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা পরবর্তী জীবনে ওই স্থানে রোগ দানা বাঁধার পথ প্রশস্ত করে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সলেশনাল রিউমাটোলজির অধ্যাপক ক্রিস্টোফার বাকলি জানান, কয়েক দশক ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানতেন যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু জয়েন্টকে আক্রমণ করে, কিন্তু এর কারণ অজানা ছিল। নতুন এই গবেষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, জয়েন্ট গঠনের সময়কার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যই ভবিষ্যতে প্রদাহ কোথায় হবে তা নির্ধারণ করে দেয়।
গবেষক দলটি সিঙ্গেল-সেল সিকোয়েন্সিং এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন থ্রিডি এক্স-রে প্রযুক্তির মাধ্যমে ভ্রূণ অবস্থায় জয়েন্ট গঠনের প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখেছেন, জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও টিস্যুর বিন্যাস প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অনেক আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়। এই আবিষ্কার আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোষের স্বাভাবিক সুরক্ষা ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার উপায় বাতলে দিতে পারে।