যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা গ্লিওব্লাস্টোমা নামক মরণঘাতী ব্রেইন ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করার একটি নতুন কৌশল আবিষ্কার করেছেন। এই গবেষণার মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের এমন একটি প্রোটিন শনাক্ত করা হয়েছে, যা বাধা দিলে টিউমার প্রতিরোধ সহজ হবে। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি ওম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের গবেষক ডা. আরনব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
গ্লিওব্লাস্টোমা হলো ব্রেইন ক্যান্সারের অন্যতম জটিল ধরন, যা প্রচলিত রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির বিরুদ্ধেও টিকে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার কোষগুলো ‘পি-পি-টু-এ’ (PP2A) নামক এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে বেঁচে থাকে। গ্লিওব্লাস্টোমা কোষগুলো মূলত এএনপি৩২এ, সিআইপি২এ এবং এসইটি (SET) নামক তিনটি প্রোটিন ব্যবহার করে এই এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন যে, এসইটি প্রোটিনকে ব্লক করলে টিউমার গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় ক্যান্সার কোষগুলো রেডিয়েশনের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ল্যাবরেটরি ও প্রাণীর ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রোটিনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার ফলে ক্যান্সার কোষের টিকে থাকার ক্ষমতা কমে যায়।
ডা. আরনব চক্রবর্তী বলেন, গ্লিওব্লাস্টোমা খুব দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে টিকে থাকতে পারে। আমাদের এই নতুন প্রাপ্তি ক্যান্সার কোষের টিকে থাকার পথগুলো বন্ধ করে দেবে, যা রোগীদের চিকিৎসায় বর্তমান কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
গবেষক দলটি একটি এফডিএ-অনুমোদিত অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ নিয়েও পরীক্ষা করেছে, যা এই এনজাইমের সক্রিয়তা বাড়াতে সক্ষম। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন। গবেষণাপত্রটি ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ক্যান্সার লেটারস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।