বাংলাদেশের ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত কেমন সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে। ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যখন কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের মাটিতে বসে জঙ্গিবাদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ভিত্তিহীন কথা বলে এবং ভারত সরকার তা প্রশ্রয় দেয়, তখন তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতে উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের যে বয়ান তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা ছিল একটি রাজনৈতিক কৌশল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে উন্নত ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক চায়। তবে সেটি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে এবং জনগণের স্বার্থ বজায় রেখে।
দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে ভারতের ভূমিকার ওপর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।
ভারতের হাইকমিশনার কর্তৃক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ জানান, দুই দেশের সম্পর্ক বহুমুখী। সরকারের কিছু বিষয় বাদেও জ্বালানি ও অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা চলমান থাকবে। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমন্ত্রণ পাওয়া গেছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা ও সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।