যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে মধ্যবয়সী নারীরা কর্মসংস্থানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্ট্যাসি ডুগুইড নামের ৫২ বছর বয়সী এক নারী দাবি করেছেন যে, এআই-এর বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে অনেক অভিজ্ঞ নারী কর্মক্ষেত্রে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনিসহ আরও অনেক ভুক্তভোগী মনে করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এআই-এর ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ ও বয়সজনিত বৈষম্যকে আরও উসকে দিচ্ছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে নতুন চাকরির সন্ধানে নেমে স্ট্যাসি ডুগুইড বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হন। শত শত সিভি জমা দেওয়ার পরও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি কেবল তার একার সমস্যা নয়। তার মতো ৪০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী আরও অনেকে একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেও এআই স্ক্রিনিং সিস্টেম তাদের সিভি প্রত্যাখান করছে।
এই সমস্যার কারণ হিসেবে অনেক ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ এবং ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, এআই টুলগুলো মানুষের দক্ষতা বা ব্যক্তিত্বের গভীরতা বিচার করতে পারে না। বরং এগুলো অনেক সময় সিভিতে থাকা ক্যারিয়ার গ্যাপ বা দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতাকে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য করে। লন্ডনের সিটি অফ লন্ডন উইমেন পিভোটিং টু ডিজিটাল টাস্কফোর্সের চেয়ার ক্যারোলিন হেইনস জানিয়েছেন, নিয়োগে এআই-এর ভুল ব্যবহারের ফলে অনেক দক্ষ নারী বাদ পড়ে যাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এআই আইনজীবী লরা হোল্ডেন সতর্ক করে বলেছেন, অনেক কোম্পানিই জানে না তাদের ব্যবহৃত টুলগুলো কীভাবে কাজ করে, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া নিয়োগকারী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কডে-এর বিরুদ্ধেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে, যদিও তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন হয় তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।