জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিড়ালের বুদ্ধিমত্তা ও স্মরণশক্তির ওপর গবেষণা চালিয়ে জানিয়েছেন যে, বিড়াল কুকুরের মতোই বুদ্ধিমান এবং মানুষের মতো তাদেরও এপিসোডিক মেমোরি বা জীবনের বিশেষ ঘটনা মনে রাখার ক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল বিড়ালের প্রতি মানুষের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। বিড়ালকে সাধারণত উদাসীন মনে করা হলেও, নতুন এই বৈজ্ঞানিক তথ্য তাদের মানসিক সক্ষমতা ও তীক্ষ্ণ মেধার প্রমাণ দেয়।
মস্তিষ্কের গঠন ও বুদ্ধিমত্তা
বিড়ালের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সে প্রায় ২৫ কোটি নিউরন থাকে, যা জটিল চিন্তা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সাহায্য করে। এছাড়া বিড়ালের মস্তিষ্কে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা স্নায়বিক নমনীয়তা রয়েছে, যার ফলে নতুন অভিজ্ঞতা ও শেখার মাধ্যমে তারা নিজেদের মস্তিষ্কের গঠন পুনর্গঠন করতে পারে। মনোবিজ্ঞানী সাহো তাকেগি ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লরি সান্তোসের মতে, বিড়াল অতীতের একক অভিজ্ঞতার স্মৃতি ব্যবহার করতে পারে, যা তাদের মানুষের মতোই চেতনাধারী প্রাণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
আচরণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
বিড়ালের তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি রয়েছে; তারা খাবারের অবস্থান কিংবা খেলনা কোথায় লুকানো আছে তা নির্ভুলভাবে মনে রাখতে পারে। যদিও মালিকের ডাকে তারা সব সময় সাড়া দেয় না, কিন্তু তারা মানুষের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে চিনতে সক্ষম। এছাড়া বন্য পূর্বপুরুষদের মতো বিড়াল সমস্যা সমাধানে বেশ পটু। ক্যাবিনেটের দরজা খোলা কিংবা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সামাজিক সম্পর্ক ও বিবর্তন
মানুষের সঙ্গে হাজার বছর ধরে বসবাস করার ফলে বিড়াল মানুষের সাথে আবেগপ্রবণ সম্পর্ক তৈরি করেছে। তাদের এই মানসিক বিকাশের পেছনে শহুরে পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বংশগত বিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে। ছোটবেলা থেকে মাকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবং বড় হওয়ার পর নিজস্ব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিড়াল তাদের বুদ্ধিমত্তাকে আরও শানিয়ে নেয়। গবেষকদের মতে, বিড়ালের এই বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের গৃহপালিত অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে আলাদা ও চতুর করে তুলেছে।