মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মস্থল দুর্ঘটনা, স্থায়ী অক্ষমতা এবং মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই বিশাল অঙ্কের পাওনা আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২ হাজার ৮৫৭টি দাবির বিপরীতে ১ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার ২৯১ দশমিক ৩১ রিঙ্গিত বা প্রায় ৩৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও বিভিন্ন ভাতা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৩৮১টি দাবির বিপরীতে প্রায় ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদায়কৃত অর্থের বড় একটি অংশ পেয়েছেন কর্মস্থলে আহত হয়ে সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা হারানো শ্রমিকরা। এছাড়া স্থায়ী অক্ষমতা ভাতা, নির্ভরশীলদের ভাতা, দাফন ব্যয় এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচও এই কার্যক্রমের আওতায় পরিশোধ করা হয়েছে।
হাইকমিশনের এই উদ্যোগ সম্পর্কে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হাইকমিশনের প্রধান দায়িত্ব। কোনো শ্রমিক বা তাদের পরিবার যেন পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
হাইকমিশনের মিনিস্টার (শ্রম) সিদ্দিকুর রহমান জানান, অনেক প্রবাসী শ্রমিক ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন। তাদের সচেতন করার পাশাপাশি বকেয়া বেতন ও অন্যান্য দাবি নিষ্পত্তিতে শ্রম উইং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি বৈধ দাবি তদারকির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা মনে করেন, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা এবং নথিপত্রের জটিলতা কাটিয়ে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাদের মতে, হাইকমিশনের পাশাপাশি কমিউনিটি সংগঠনগুলোকেও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে যাতে কেউ প্রতারিত না হন।