সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থা সার্ন-এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে (LHC) নতুন গবেষণায় আণুবীক্ষণিক বা মাইক্রোস্কোপিক ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান্তা বারবারার গবেষক তামাস ভামি এবং তার দল এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। নতুন এই তথ্যের ভিত্তিতে মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কিত তাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল, যদি অতিরিক্ত মাত্রা (extra dimensions) থাকে, তবে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে মহাকর্ষ বল শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং কণা সংঘর্ষের মাধ্যমে মাইক্রোস্কোপিক ব্ল্যাক হোল তৈরি হতে পারে। এই ব্ল্যাক হোলগুলো শনাক্ত করা গেলে কোয়ান্টাম মহাকর্ষের রহস্য এবং মহাবিশ্বের মৌলিক শক্তিগুলোর সমন্বয় সাধন করা সহজ হতো। গবেষকদের মতে, এই ফলাফলটি কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং এটি মহাবিশ্ব কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করে।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষক দল ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারা ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে ‘স্ফেরিসিটি’ এবং নতুন উন্নত ‘ফেজ-স্পেস ডিস্টেন্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সাধারণ কণা সংঘর্ষের ভিড় থেকে অস্বাভাবিক কোনো সংকেত আছে কি না, তা যাচাই করেছেন। তবে কোনো ব্ল্যাক হোলের লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই গবেষণার ফলাফল প্রায় ১২ টেরা-ইলেকট্রন ভোল্ট (TeV) পর্যন্ত শক্তির সীমার মধ্যে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এটি স্ট্রিং থিওরি এবং অতিরিক্ত মাত্রা সংক্রান্ত তাত্ত্বিক মডেলগুলোর ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। গবেষক দলের সদস্য ড্যানি ঝাং জানান, প্রতিটি নেতিবাচক ফলাফল মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের মানচিত্রটিকে সংকুচিত করে আনে, যা ভবিষ্যতে নতুন গবেষণার পথ প্রশস্ত করে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারটি আপগ্রেড করার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের হাই-লুমিনোসিটি লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (HL-LHC) থেকে প্রাপ্ত আরও বিশাল তথ্যভাণ্ডার এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা মহাবিশ্বের মৌলিক কণা ও কোয়ান্টাম মহাকর্ষ নিয়ে তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি এই গবেষণায় স্ফালরন (sphaleron) নামক তাত্ত্বিক কাঠামোর অস্তিত্বও খোঁজা হয়েছিল, যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।