ফ্রান্সের প্যারিসে ১৯৫০ সালে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথম এমব্রায়োলিস লেট-ক্রিম (Embryolisse Lait-Crème) উদ্ভাবন করেন। মূলত ত্বকের সংক্রমণ ও রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি এই ক্রিমটি পরবর্তীতে এর অসাধারণ গুণমান ও কার্যকারিতার কারণে বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ, রূপসজ্জা শিল্পী এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘ আট দশক পরেও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং মেকআপের আগে ত্বককে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কেন এই ক্রিম জনপ্রিয়
শুরুতে এটি চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে এর বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এটি ফ্যাশন ও সৌন্দর্য জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করে নেয়। বর্তমানে গুইনেথ প্যালট্রো এবং কিম কার্দাশিয়ানের মতো তারকাদের পছন্দের তালিকায় এই ক্রিম রয়েছে। ২০১৯ সালে এটি যুক্তরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০২১ ও ২০২৪ সালে যথাক্রমে সংবেদনশীল ত্বক এবং রেটিনল-সমৃদ্ধ নতুন সংস্করণ বাজারে আনা হয়।
পণ্যটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
সৌন্দর্য সম্পাদকদের মতে, নিয়মিত ত্বকচর্চায় এটি বেশ কার্যকরী। এর মূল উপাদানের মধ্যে রয়েছে শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা, হাইড্রোলাইজড সয়া প্রোটিন এবং মিনারেল অয়েল। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে ব্যবহারকারীদের ধরন অনুযায়ী কোম্পানিটি তিনটি ভিন্ন সংস্করণ বাজারে এনেছে। স্বাভাবিক থেকে শুষ্ক ত্বকের জন্য কনসেন্ট্রেটেড মাল্টি-পারপাস ময়েশ্চারাইজার, সংবেদনশীল বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেনসিটিভ সংস্করণ এবং ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা দূর করতে রেটিনল-লাইক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
এই ক্রিম ব্যবহারের একটি বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখিতা। এটি একই সঙ্গে ফেস ক্রিম, মেকআপ প্রাইমার এবং মৃদু ফেস ক্লিনজার হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে যারা সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকর রুটিন অনুসরণ করতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী। তবে ব্যবহারকারীদের ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা অনুযায়ী সঠিক সংস্করণটি নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা।