যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শহরের সরকারি সেবাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট টেকনোলজি’ (পিআইটি) বা ‘পিআইটি ক্রু’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছেন। কোনি আইল্যান্ডের লুনা পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেয়র। শহরের সরকারি সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে এই বিশেষ প্রযুক্তি দল।
মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করা প্রকৌশলী ও ডিজাইনারদের ছোট ছোট এই দলগুলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জটিল সেবাকে সহজতর করবে। মূলত সরকারি সেবাকে জনগণের জন্য আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন শহরের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) লিসা গেলবটার। তিনি ইউএস ডিজিটাল সার্ভিসের (ইউএসডিএস) অভিজ্ঞ সদস্য। তার সাথে যোগ দিয়েছেন লুক ফারেল ও মায়া ইসরানি, যারা নিজেও ইউএসডিএসের সাবেক কর্মী। এই প্রকল্পে ৫.২৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার পাশাপাশি রকফেলার ফাউন্ডেশন থেকে আরও ২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পাওয়া গেছে।
পিআইটি ক্রুর প্রথম লক্ষ্য হলো ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম বাস্তবায়ন করা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সুবিধা চালু হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসী খুব সহজে বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন বা সেবার চুক্তি বাতিল করতে পারবেন। এটি বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে সাধারণ মানুষকে আইনি সুরক্ষা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিখাতে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রকল্পের ৩৫টি পদের বিপরীতে এরই মধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ কর্মীরাও রয়েছেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার আগ্রহ থেকেই অনেকে এই সরকারি পেশায় যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।