যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং আর্ক ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ভাইরাসগুলো বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে নির্মূল করতে সক্ষম। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণার পদ্ধতি
বিজ্ঞানীরা ‘ইভো ১’ এবং ‘ইভো ২’ নামের দুটি এআই মডেল ব্যবহার করে এই নতুন ভাইরাসগুলোর জিনোম নকশা করেছেন। এজন্য তারা প্রকৃতিতে পাওয়া লক্ষ লক্ষ উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের জিনেটিক তথ্যের সহায়তা নিয়েছেন। গবেষণায় ফাই-এক্স১৭৪ (Phi X-174) ব্যাকটেরিওফাজকে একটি আদর্শ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করতে পারে। এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি জিনোমগুলো থেকে ৩০০টি নমুনার কৃত্রিম সংশ্লেষণ করা হয় এবং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর ১৬টি ভাইরাসকে পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই গবেষণার ফলাফল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই-নির্ভর এই ভাইরাসগুলো দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে ফেলতে সক্ষম। এটি ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পর্যায়ের চিকিৎসা এবং নতুন ধারার থেরাপি তৈরির পথ সুগম করবে।
উদ্বেগ ও ঝুঁকি
নতুন এই উদ্ভাবন চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় মাইলফলক হলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক মরিটজ হ্যাঙ্কি সতর্ক করেছেন যে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির তুলনায় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিকারক রোগজীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তিন বছর আগে র্যান্ড কর্পোরেশনের একটি প্রতিবেদনেও এআইয়ের মাধ্যমে জৈব অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।