চীনের বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক-প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এলাকা বা ই-টাউন ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে বৈশ্বিক এআই কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মূল এআই শিল্প থেকে ২০০ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২৯.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নয়ন অঞ্চলটির চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক খোং লেই জানান, এই উদ্যোগ কেবল কোম্পানি গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এআই-প্লাস প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প, অবকাঠামো এবং নগর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করা হবে।
এআই যুগে প্রতিযোগিতার স্বরূপ নিয়ে খোং লেই বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা শুধু একটি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে না। এর জন্য মৌলিক সক্ষমতা, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডেটা সম্পদ, কার্যকর ইকোসিস্টেম এবং যথাযথ সুশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন।
অঞ্চলটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব
বেইজিংয়ের মোট আয়তনের মাত্র ১.৩৭ শতাংশ জুড়ে অবস্থিত এই অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। ২০২৫ সালে ই-টাউনের জিডিপি ছিল ৪০১.২ বিলিয়ন ইউয়ান, যা বেইজিংয়ের মোট শিল্প মূল্য সংযোজনের প্রায় ৪০ শতাংশ। বার্ষিক গড়ে ১২.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী এই অঞ্চলটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এআইকে কোয়ান্টাম বিজ্ঞান, ৬জি যোগাযোগ এবং মহাকাশ প্রযুক্তির সাথে সমন্বিত করছে।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ই-টাউনে বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিপ ডিজাইন থেকে শুরু করে উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। এছাড়া ভবিষ্যতের এআই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ১ লাখ পেটাফ্লপ ক্ষমতাসম্পন্ন বুদ্ধিমান কম্পিউটিং ক্লাস্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। রোবটিক্স এবং বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন তুলে ধরার লক্ষ্যে আগস্ট মাসে ওয়ার্ল্ড রোবট কনফারেন্স এবং অক্টোবর মাসে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টেড ভেহিকলস কনফারেন্সের আয়োজন করবে ই-টাউন কর্তৃপক্ষ।