যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় একটি নতুন ও কার্যকর কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। যারা প্রচলিত হরমোন-ব্লকিং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না, তাদের জন্য এই দুই ওষুধের সমন্বিত পদ্ধতি নতুন আশা জাগাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোশি আলুমাকেল এবং তার দল জানিয়েছেন, ক্যান্সার কোষগুলো অনেক সময় নিজেদের পরিচয় বদলে ফেলে চিকিৎসার প্রতি প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।
প্রোস্টেট ক্যান্সার কেন বিপজ্জনক
সাধারণত প্রোস্টেট টিউমারগুলো গ্রন্থিযুক্ত কোষের মতো আচরণ করে এবং টেস্টোস্টেরনের মতো পুরুষ হরমোনের ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পায়। এর ওপর ভিত্তি করেই প্রচলিত চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষগুলো ‘ট্রান্সডিফারেন্সিয়েশন’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের গঠন ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ফেলে, যার ফলে প্রচলিত ওষুধ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি
গবেষণায় দেখা গেছে, বিইটি ব্রোমোডোমেইন ইনহিবিটর এবং ডিএনএমটি ইনহিবিটর—এই দুই ধরনের ওষুধের সংমিশ্রণ ক্যান্সার কোষের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। বিইটি ইনহিবিটর কোষের নতুন পরিচয় পাওয়ার প্রক্রিয়াকে থামায়, আর ডিএনএমটি ইনহিবিটর সেই জিনগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে যা ক্যান্সার কোষ হারিয়ে ফেলেছিল।
গবেষকদের ভাষ্য
গবেষণার প্রধান লেখক জোশি আলুমাকেল বলেন, তারা ক্যান্সার কোষের রূপান্তরের দুই দিককেই একই সঙ্গে লক্ষ্য করার চেষ্টা করছেন। গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই দুই ওষুধের সমন্বয়ে টিউমারের বৃদ্ধি নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এমনকি কম মাত্রাতেও এটি বেশ কার্যকর এবং সহনীয় ছিল।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষক দলটি এখন এটি যাচাই করতে চাইছেন যে, ঠিক কোন রোগীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে। এছাড়া প্রোস্টেট ক্যান্সারের বাইরেও ফুসফুস বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে তারা কাজ করছেন। ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এই পদ্ধতি মানুষের শরীরে প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।