যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের একদল গবেষক সাপের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিষধর সাপের কামড়ের একটি শক্তিশালী চিকিৎসার পথ খুঁজে পেয়েছেন। জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শন বি ক্যারল ও তার নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এই নতুন কৌশলটি উদ্ভাবন করেছেন, যা ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সাপের কামড় বিশ্বজুড়ে একটি অবহেলিত স্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাই এই উদ্ভাবন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা জানতেন যে, ভাইপার জাতীয় সাপ তাদের নিজেদের বিষের বিরুদ্ধে অনেকটা প্রতিরোধী। গবেষকরা দেখেছেন, এই সাপের রক্তে ‘ফেটুয়া’ (FETUA) নামক কিছু প্রোটিন থাকে, যা বিষের বিষক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আলাদা আলাদা প্রোটিন এককভাবে কার্যকর না হলেও, যখন কয়েকটি ফেটুয়া প্রোটিনের মিশ্রণ তৈরি করা হয়, তখন তা সাপের বিষের প্রাণঘাতী প্রভাবকে দারুণভাবে রুখে দিতে পারে।
গবেষণাগারে পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রোটিনের এই বিশেষ মিশ্রণটি বর্তমানে প্রচলিত ভেড়ার অ্যান্টিবডি থেকে তৈরি অ্যান্টিভেনমের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি কেবল রেটলস্নেকের বিষই নয়, বরং বিবর্তনের ধারায় ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ভাইপার সাপের বিষের বিরুদ্ধেও ব্যাপক সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
প্রথাগত অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সব ধরনের বিষের বিরুদ্ধে সমান কার্যকর হয় না। এছাড়া অনেক সময় এটি শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। গবেষকদের বিশ্বাস, সাপের নিজস্ব প্রোটিন থেকে তৈরি এই নতুন প্রজন্মের অ্যান্টিভেনম অধিক নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং সহজে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক শন বি ক্যারল জানান, বর্তমানে তারা ভাইপার সাপের অন্যান্য বিষাক্ত প্রোটিন পরিবারকে লক্ষ্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে এই প্রযুক্তি ভেটেরিনারি বা পশু চিকিৎসায় ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও, ভবিষ্যতে এটি মানুষের সাপের কামড় চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।