যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক মানুষের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ১,২০০-এরও বেশি জিনগত বৈচিত্র্যের (genetic variants) সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই জিনগত বিন্যাসগুলো কেবল মানুষের স্বভাব নয়, বরং স্বাস্থ্য, আয়ু, শিক্ষা, ক্যারিয়ার এবং আয়-রোজগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
রিভাইভড জিনোমিক্স অফ পার্সোনালিটি কনসোর্টিয়াম এই গবেষণায় বিশ্বের ৪৬টি গবেষণা দলের তথ্য ব্যবহার করেছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিত্বের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য—উন্মুক্ততা, বিবেকবোধ, বহির্মুখিতা, সম্মত হওয়ার প্রবণতা এবং স্নায়বিক অস্থিরতা পরিমাপ করা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক টেড শওয়া বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি ‘পার্সোনালিটি জিন’ নেই। বরং ব্যক্তিত্ব অসংখ্য ছোট ছোট জিনগত বৈচিত্র্যের সমষ্টি। যদিও এককভাবে প্রতিটি জিনের প্রভাব অত্যন্ত নগণ্য, কিন্তু সম্মিলিতভাবে তারা মানুষের আচরণ ও জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
গবেষকদের মতে, ব্যক্তিত্বের এই জিনগত প্রভাব কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উদাহরণস্বরূপ, নেদারল্যান্ডসের একজন তরুণের বহির্মুখী স্বভাবের সঙ্গে জড়িত জিনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের একজন বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ফলাফল দিতে সক্ষম। এটি প্রমাণ করে যে, কেবল পরিবেশ নয়, বংশগতিও এক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
তবে এই গবেষণায় পরিবেশের গুরুত্বকেও অস্বীকার করা হয়নি। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জিন এবং পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিত্ব তৈরি করে। যেমন, কেউ যদি জন্মগতভাবে নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি আগ্রহী হন, তবে তিনি স্বভাবতই এমন একটি পরিবেশ বা কর্মক্ষেত্র বেছে নেন যা তার সেই বৈশিষ্ট্যকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
গবেষকদের আশা, এই ফলাফল কেবল মনোবিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিকিৎসাশাস্ত্র, জনস্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান সম্পর্কিত গবেষণায় এই তথ্যগুলো নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা মনে করছেন।