যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গভীর সংকট তৈরি করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ম্যাক মিলার জানিয়েছেন, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সাধারণ হ্যাকাররাও এখন অত্যাধুনিক ও জটিল সব সাইবার আক্রমণ চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, যা পুরো সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সাইবার অপরাধের গণতন্ত্রীকরণ
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই ব্যবহারের ফলে সাইবার অপরাধ এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। আগে যেসব ফিশিং আক্রমণ বা কোডিং করতে দীর্ঘ সময় ও গবেষণার প্রয়োজন হতো, এখন এআই টুল ব্যবহার করে তা কয়েক মুহূর্তেই করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সাইবার অপরাধীরা এখন একই সাথে একাধিক এআই মডেল ব্যবহার করে আক্রমণের সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে।
সামাজিক প্রকৌশল ও ডিপফেকের প্রভাব
এআই-এর কারণে ফিশিং ইমেইলগুলোর মান অনেক উন্নত হয়েছে। আগে ভুল বানান বা দুর্বল ভাষার কারণে এসব ইমেইল সহজেই শনাক্ত করা যেত, কিন্তু এখন এআই ব্যবহার করে নিখুঁত ও প্ররোচনামূলক ইমেইল তৈরি করা হচ্ছে। ব্রাইটসাইডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮২ শতাংশ ফিশিং ইমেইলে এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত এক বছরে এআই ব্যবহার করে ভয়েস ক্লোনিং এবং ডিপফেক আক্রমণের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
নতুন আক্রমণের ক্ষেত্র
প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এআই সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রম্পট ইনজেকশন’ আক্রমণ অন্যতম, যেখানে হ্যাকাররা এআই-কে ভুল নির্দেশ দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া এআই মডেলের প্রশিক্ষণের তথ্য পরিবর্তন বা ‘ডেটা পয়জনিং’-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভেতরে ব্যাকডোর তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে।
নিরাপত্তার লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ
প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থায় বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের এআই ব্যবহার করছে। মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ‘প্রজেক্ট পারসেপশন’-এর মতো এআই-চালিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, যা লাল, নীল ও সবুজ টিমের সমন্বয়ে সাইবার হামলা মোকাবিলা করবে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রটি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আক্রমণকারীরা প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।