ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

পাঁচ বছরে ৯ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা কর্মসংস্থান ব্যাংকের

Truth Post
July 10, 2026 3:23 pm
Link Copied!

প্রশিক্ষিত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ৯ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্মসংস্থান ব্যাংক।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী তার কার্যালয়ে বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন,

“চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সোয়া লাখ থেকে দেড় লাখ বেকার যুবককে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ব্যাংকটি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।”

তিনি আরও বলেন,

“এই অর্থ দিয়ে এক বছরের মধ্যে ৫০ হাজার নতুন বেকারকে সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এতে তারা ছোট ছোট ব্যবসা করে স্বাবলম্বী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।”

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ বেকার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে ৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে। কর্মসংস্থান ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অতিদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা কর্মসংস্থান ব্যাংক বাস্তবায়ন করবে।

অরুন কুমার চৌধুরী প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন,

“এই প্রকল্পের আওতায় ডাব ও ফল বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, চা-পানের দোকানি, সেলাই ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত পুঁজিহীন দরিদ্র ব্যক্তি এবং কর্মহীন স্বল্পপুঁজির ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ বিতরণের পাশাপাশি ঋণের অর্থ বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা, বিপণন, কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়ে পরামর্শ এবং সহায়তাও দেওয়া হবে। এতে তারা স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”

ব্যাংকটির নেওয়া উদ্যোগ ও লক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপ:

• শেরপুর, বরগুনা ও কুড়িগ্রাম জেলার ২০টি উপজেলায় ৮টি শাখার মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে ৫০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান।
• ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশ নির্ধারণ, যার মধ্যে ৩ শতাংশ সিড ফান্ডে এবং ৩ শতাংশ প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে ব্যবহার।
• রংপুরের বদরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলাকে প্রশিক্ষিত বেকারমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা।
• পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফাইন্যান্সিং ও শরিয়াহভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।

অরুন কুমার চৌধুরী জানান, এ বছরকে ‘স্বচ্ছ ব্যাংকিং ও টেকসই কর্মসংস্থানের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের জন্য মেন্টরিং ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায় তারা টিকে থাকতে পারেন এবং ব্যাংকের ঋণ আদায়ের হার বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন,

“এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাংকের জনবল সংকট সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৩ হাজার ২০০ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। প্রতিটি শাখায় মাত্র ৩ থেকে ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।”

পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকার কর্মসংস্থান ব্যাংককে গ্রামীণ ব্যাংকের মতো করমুক্ত ঘোষণা করলে আরও বেশি সংখ্যক বেকার তরুণের জন্য কম সুদে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।