হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পর বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানে নতুন করে ধারাবাহিক হামলার পর বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
- ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৯.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে।
- দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৮ শতাংশ এবং জাপান ও চীনের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো ২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
- প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলো, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বুধবারের বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯.৫৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত কয়েক মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এশিয়ার পুঁজিবাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকে ৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচকেও ২ শতাংশের বেশি পতন দেখা গেছে। বিশেষ করে এসকে হাইনিক্স-এর মতো বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষণ
হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই অঞ্চলে যে কোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দামের অস্থিরতা শুধুমাত্র জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিতে পারে।
পুঁজিবাজারে যে বড় ধরনের ধস দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার বহিঃপ্রকাশ। বিনিয়োগকারীরা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং সাপ্লাই চেইনের বিঘ্ন ঘটার ভয়ে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদি এই কূটনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে।
সূত্র: theguardian.com