বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ডালের দাম মণে ১১০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডালের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও কিছু আমদানিকারক সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী আজিজুল হকের মতে, বাজারে বর্তমানে যে ডাল বিক্রি হচ্ছে তা কয়েক মাস আগের কেনা, তাই এই সময়ে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিপরীতে আমদানিকারক আশুতোষ মহাজন আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চট্টগ্রাম ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিনের মতে, আমদানিকারকদের কারসাজিতে বাজার জিম্মি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর বাজার মনিটরিং প্রয়োজন।
রাজধানী ঢাকার মোঘলবাজার, কারওয়ান বাজার ও কাঁঠালবাগানসহ বিভিন্ন বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা চিনি, ভোজ্যতেল ও আটার দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। চিনি প্রতি কেজি ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও তা খুচরা বাজারে ৮৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে।
আয়ের সাথে ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় তাকে সংসার চালাতে ঋণ করতে হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা কম। সরকার চাইলে শুল্ক সমন্বয় বা সরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পারে, তবে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।