বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা ‘আমিররাও ভাগ খায়?’ এমন প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সাধারণ সম্পাদক শইমী ইমরান হিকিম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এ পোস্ট দেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্য বিবাদের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পোস্টের বিষয়বস্তু
শইমী ইমরান হিকিম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমিররাও ভাগ খায়? ভাগ পায়, ভালোই তো ভাগাভাগির রাজনীতি। সামনে আরও কত কিছু দেখবো।’ যদিও পোস্টে সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
পোস্টটি দেওয়ার পর মন্তব্যের ঘরে উপজেলা আবু সাঈদ ইউনিটের সভাপতি মো. মাহবুব আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, স্থানীয় জামায়াত আমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছেন না। একইসঙ্গে মেহেদি হাসান মিথুন নামে আরেক কর্মী ‘৬০%-৪০% খাওয়া-দাওয়া’ নিয়ে মন্তব্য করেন।
উপজেলা আমিরের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী বলেন, তাকে উদ্দেশ্য করেই এসব স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। তিনি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বরং এমপির প্রতিনিধি হিসেবে তারা নিজেরা নানা অনিয়ম করেছেন। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই তারা ক্ষুব্ধ।’ বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
সাংগঠনিক অবস্থান
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং যে পক্ষেরই দোষ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, স্ট্যাটাস প্রদানকারী শইমী ইমরান হিকিমের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে মন্তব্যকারী মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর এবং আইনজীবী রায়হান কবীরের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।