কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (টিআইএফএফ) লাইকা স্টুডিও তাদের আসন্ন স্টপ-মোশন অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘ওয়াইল্ডউড’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। স্টুডিওর অ্যানিমেশন প্রধান ব্র্যাড শিফ এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী এবং এটি কেন আগের কাজগুলোর চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে কথা বলেছেন। লাইকা স্টুডিওর এই নতুন সিনেমাটি আগামী ২৩ অক্টোবর মুক্তি পাবে।
কারিগরি উৎকর্ষ
ওয়াইল্ডউড সিনেমার অ্যানিমেশন অত্যন্ত সাবলীল হওয়ার পেছনে ডিজিটাল ক্যামেরা ও ফ্রেম-গ্র্যাবার প্রযুক্তির ভূমিকা রয়েছে। ব্র্যাড শিফ জানান, ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে অ্যানিমেটররা কাজ করার সময় প্রতিটি ফ্রেম স্পষ্টভাবে দেখতে পান। এতে পুতুলের নড়াচড়া নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়, যা অ্যানিমেশনকে জটমুক্ত ও মসৃণ করে তোলে।
পুতুলের গঠন ও বাস্তবতা
সিনেমার চরিত্রগুলোকে আরও জীবন্ত করতে এবার প্রতিটি প্রধান পুতুলে উন্নত ‘ব্রিদার’ বা ডায়াফ্রাম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চরিত্রগুলোর শ্বাস নেওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত মনে হয়। এর আগে ২০১৯ সালের মিসিং লিংক সিনেমায় এই প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহার করা হয়েছিল।
উৎপাদনের পরিসংখ্যান
ওয়াইল্ডউড নির্মাণে রেকর্ড পরিমাণ শ্রম ও সময় ব্যয় হয়েছে। এই চলচ্চিত্র তৈরিতে ২৩৩টি পুতুল ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল প্রধান চরিত্র প্রু-এর জন্যই রয়েছে ৩৬টি সংস্করণ। ৪৯ জন অ্যানিমেটর দীর্ঘ ২৩১ সপ্তাহ ধরে কাজ করে সিনেমাটি সম্পন্ন করেছেন। এতে পোর্টল্যান্ড শহরের পটভূমিতে এক কিশোরীর দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।