যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন আপগ্রেড করা বিদ্যুৎ টাওয়ার ও সাবস্টেশনের কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য বছরে ২৫০ পাউন্ড বিদ্যুৎ বিল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় থাকা ৪৩টি ট্রান্সমিশন প্রকল্পের ১ হাজার ৬০০ ফুট বা ৫০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী গ্রাহকরা আগামী ১০ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগটি ‘পাউন্ডস ফর পাইলনস’ নামে পরিচিত।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ব্রিটেনের বিদ্যুৎ গ্রিড মূলত কয়লা ও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এখন ক্রমবর্ধমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করতে গ্রিডের আধুনিকায়ন জরুরি। মন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস উল্লেখ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গ্রিড উন্নয়নে অবহেলার কারণে এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
শ্যাঙ্কস বলেন, জনবসতির কাছে অবকাঠামো নির্মাণ কিছুটা বিড়ম্বনার কারণ হলেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের সুযোগ নিশ্চিত করতে এটি অত্যাবশ্যক। তিনি সতর্ক করেন যে, গ্রিড আপগ্রেড না করলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যর্থতার ঝুঁকি রয়েছে।
বিনিয়োগ ও এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা
এই ছাড়ের জন্য অর্থায়ন করতে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে বছরে প্রায় ৮০ পেন্স যুক্ত করা হবে। প্রকল্পগুলোর দুই-তৃতীয়াংশই স্কটল্যান্ডে অবস্থিত, যা মূলত ক্রমবর্ধমান বায়ু বিদ্যুৎ খাতের প্রসারে সাহায্য করবে। এছাড়া লন্ডন, ইস্ট অ্যাংলিয়া, মিডল্যান্ডস এবং উত্তর ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ধরনের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিরোধিতা ও সমালোচনা
তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ‘সেভ আওয়ার মিয়ার্নস’ প্রচারণা দলের কেট ম্যাথিউস এই ছাড়কে অত্যন্ত সামান্য ও অপমানজনক বলে অভিহিত করেছেন। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, প্রকল্পের ফলে জমির মূল্য কমে যাওয়া, পর্যটন খাতের ক্ষতি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের তুলনায় ২৫০ পাউন্ডের এই ছাড় খুবই নগণ্য।
অনেকে অভিযোগ তুলেছেন যে, এই টাওয়ারগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাসিন্দাদের মানসিক ও শারীরিক বিড়ম্বনার কারণ হবে। তবে জাতীয় গ্রিড কর্তৃপক্ষের দাবি, মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে জটিল। আগামী বছরের শুরু থেকেই এই ছাড়ের অর্থ প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।